অপটিক্যাল ফাইবার (Optical fiber) কি?

অপটিক্যাল ফাইবার (Optical fiber) একধরনের পাতলা, স্বচ্ছ তন্তু বিশেষ, সাধারণত কাঁচ অথবা প্লাস্টিক দিয়ে বানানো হয়, যা আলো পরিবহনে ব্যবহৃত হয়। ফাইবার অপটিকস ফলিত বিজ্ঞান ও প্রকৌশলের শাখা। এই অপটিক্যাল ফাইবার কি তা নিয়ে আজকে আলোচনা করব। অপটিক্যাল ফাইবারের জনক চীনা বংশোদ্ভূত হংকং, ব্রিটিশ এবং মার্কিন তড়িৎ প্রকৌশলী এবং পদার্থবিজ্ঞানী চার্লস কুয়েন কাও

অপটিক্যাল ফাইবার কাকে বলে?

আলোক শক্তিকে কাজে লাগিয়ে সরু গ্লাস বা প্লাস্টিকের মধ্য দিয়ে তথ্য আদান প্রদানের এই প্রক্রিয়াকে অপটিক্যাল ফাইবার বলে। অপটিক্যাল ফাইবার কে যোগাযোগের মাধ্যম বলা হয়ে থাকে। অপটিক্যাল ফাইবার বিষয়ে আলোচনা করে ফলিত বিজ্ঞান ও প্রকৌশলের সেই শাখায় যার নাম ফাইবার অপটিক।

অপটিক্যাল ফাইবার কি
অপটিক্যাল ফাইবার কি

অপটিক্যাল ফাইবার কি?

অপটিক্যাল ফাইবার (optical fiber) হলো কাঁচ অথবা প্লাস্টিকের তৈরি এক ধরনের ডাই ইলেকট্রিক (অন্তরক) পদার্থ। যা আলো পরিবহনে সক্ষম। অপটিকাল ফাইবারের মধ্য দিয়ে আলোর পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের মাধ্যমে অতি দ্রুত ডেটা প্রেরণ করা যায়। অপটিক্যাল ফাইবারের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এটি ইলেকট্রিক্যাল সিগন্যালের পরিবর্তে আলোক বা লাইট সিগন্যাল ট্রান্সমিট করে। বর্তমানে যে সব অপটিক্যাল ফাইবার পাওয়া যায় তার ডেটা ট্রান্সমিশন হার 100mbps থেকে 2gbps পর্যন্ত হয়ে থাকে। অপটিক্যাল ফাইবার সাধারণত টেলিযোগাযোগের ক্ষেত্রে বহুল ব্যবহৃত হচ্ছে। এছাড়া আলোকসজ্জা, সেন্সর ও ছবি সম্পাদনার কাজেও বর্তমানে ব্যবহৃত হচ্ছে।

বর্তমান অপটিক্যাল ফাইবারে যে আলোর পূর্ণ আভ্যন্তরীন প্রতিফলন হয়, ১৮৪০ সালে তা আবিস্কার করেন সুইস পদার্থবিদ Daniel Collodon ও ফরাসি পদার্থবিদ Jacones Babinet। ১৯২০ সালে এই ধারণা নিয়ে Henrich Lamm ও Munich নামের এক ছাত্র টেলিভিশনের ইমেজ স্বচ্ছ কাঁচদণ্ডের মধ্য দিয়ে পাঠাতে সমর্থ হন। কিন্তু তাদের আবিস্কৃত ইমেজ কোয়ালিটি খুব ভাল ছিলনা। এতদিন যেভাবে ট্রান্সমিশন করা হত, তার সবই ছিল আনক্লাডিং। সেই কারণে বেশিরভাগ আলো চারদিকে ছড়িয়ে পড়ায় সিগণ্যাল দূর্বল হয়ে পড়তো। পরবর্তিতে আমেরিকান পদার্থবিদ Brian O’Brien সর্বপ্রথম ক্লাডিং অপটিক্যাল ফাইবার ব্যবহারে সমর্থ লাভ করে।

ফাইবার অপটিক বা অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবল অত্যন্ত পাতলা কাঁচ বা প্ল্যাস্টিকের সমন্বয়ে তৈরি হয়ে থাকে যা অপটিক্যাল ফাইবার নামে পরিচিত। একটি ক্যাবলের মধ্যে মানুষের মাথার চুলের চেয়েও দশগুন বেশি পাতলা তন্তু থাকে, এই তন্তুর পরিমান কয়েকটি থেকে কয়েকশত পর্যন্ত হতে পারে। এক একটি তন্তু একসাথে ২৫,০০০ টেলিফোন কল বহন করতে সক্ষম এবং একটি সম্পূর্ণ ক্যাবল একসাথে কয়েক মিলিয়ন কল বহন করতে পারে। অপটিক্যাল ফাইবার কিভাবে কাজ করে জানতে ক্লিক করুন

অপটিক্যাল ফাইবারের সুবিধা

বিভিন্ন ধরনের বৈদ্যুতিক সংকেত পরিবহনের জন্য অপটিক্যাল ফাইবার একের পর এক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। ডেটা কমিউনিকেশন নেটওয়ার্কে এই ক্যাবল ব্যবহারের ফলে বিভিন্ন সুবিধা দেখা যায়। এসব সুবিধার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হল–

    • অপটিক্যাল ফাইবার দিয়ে লম্বা দুরত্বে অনেক কম সময়ে বিপুল পরিমাণ তথ্য পরিবহন করা যায়।
    • আলোর গতিতে ডেটা স্থানান্তরিত হয় এবং অপেক্ষাকৃত দ্রুত গতি সম্পন্ন।
    • উচ্চ ব্যান্ডউইডথ সম্পন্ন।
    • বিদ্যুৎ চৌম্বক প্রভাব (Electro Magnetic Interference – EMI) বা ইএমআই (EMI) থেকে মুক্ত। কারণ অপটিক্যাল ফাইবার দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয় না বিধায় চৌম্বক ক্ষেত্র কোন প্রভাব বিস্তার করে না।
    • নির্ভুল ডেটা আদান-প্রদান করে।




  • পরিবেশের তাপ-চাপ ইত্যাদি দ্বারা প্রভাবিত হয় না।
  • আকারে ছোট, ওজন অত্যন্ত কম এবং সহজে পরিবহন যোগ্য।
  • ডেটা সংরক্ষণের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা বেশি।
  • শক্তির ক্ষয় করে কম।
  • সঠিকভাবে ডেটা স্থানান্তর বা চলাচলের ক্ষেত্রে পারিপার্শ্বিক অবস্থা কোন বাধা প্রদান করতে পারে না।
  • রিপিটারসহ অনেক দুরে দুরে স্থাপন করতে হয়না।
  • এই ব্যবস্থায় তথ্য পরিবহনে তথ্য ক্ষয় কম হয়, তড়িৎ-চুম্বকীয় প্রভাব থেকে মুক্ত ইত্যাদি।

আরও পড়ুনঃ অনলাইনে আয়ের সেরা ৬ টি উপায়

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *