ইউটিউব (YouTube) মার্কেটিং কি? ইউটিউব মার্কেটিংয়ে সফল হওয়ার কৌশল

ইউটিউব (YouTube) মার্কেটিং কি? এটা জানার পূর্বে প্রথমে আমরা ইউটিউব ওয়েবসাইট সম্পর্কে জেনে নিইঃ

ইউটিউব কি?

ইউটিউব (YouTube) একটি জনপ্রিয় ভিডিও শেয়ারিং প্লাটফর্ম। যেখানে মানুষ তার পছন্দের ভিডিও দেখতে পারে এবং চাইলে নিজের তৈরি করা ভিডিও ফ্রীতে পাবলিশ করতে পারে।

2005 সালের ডিসেম্বর মাসে ইউটিউব website শুরু করে। তাদের নাম হচ্ছে জাওয়েদ করিম, চাঁদ হার্লি, স্টিভ চেন। শুরু করার এক বছরের মধ্যে ইউটিউব খুব জনপ্রিয় হয়ে যায়। পরবর্তীতে 2006 সালে গুগল ইউটিউবকে কিনে নেয় 1.2 বিলিয়ন ডলারে।
ইউটিউবার দেরকে ভিডিও পাবলিশ করার জন্য ইউটিউব পেমেন্ট করে থাকে তাদের advertising রেভিনিউ থেকে। যার কারণে বিভিন্ন বিষয়ের উপর বিশ্বের বিভিন্ন দেশে লক্ষ্য লক্ষ্য মানুষ ইউটিউবে ভিডিও আপলোড করতে শুরু করে।
ইউটিউব খুব দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠার একটি কারণ advertising রেভিনিউ।
ব্যবহারকারীর দিক দিয়ে বিশ্বে ইউটিউব ২ নাম্বার স্থানে আছে।

ইউটিউব মার্কেটিং কি এবং কিভাবে ইউটিউব কাজ করে?

ইউটিউবে ভিডিও এর মাধ্যমে কোন পণ্য বা সার্ভিস প্রচার করাকে ইউটিউব মার্কেটিং বলে।

ইউটিউবে তিন ধরণের ইউজার থাকে। যথা-

  1. ভিজিটর (যারা শুধুমাত্র ভিডিও দেখে থাকে)
  2. ইউটিউবার বা কনটেন্ট ক্রিয়েটর (যারা ভিডিও তৈরি করে থাকে)
  3. বিভিন্ন কোম্পানি বা ব্রান্ড (যারা ইউটিউবে তাদের পন্য বা সেবার পেইড প্রমোশন করে থাকে)

ইউটিউবে বিভিন্ন বিষয়ের উপর ভিডিও পাবলিশ হয়ে থাকে। যেগুলো দেখার জন্য মিলিয়ন ভিউয়ার্স ইউটিউব ভিজিট করে। সেই ভিডিও গুলো তৈরি করে থাকে ইউটিউবাররা।

যেহেতু ইউটিউবে প্রচুর পরিমাণ মানুষ ভিজিট করে। তাই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাদের প্রডাক্ট বা সার্ভিস গুলিকে ইউটিউব এর মাধ্যমে প্রমোশন করার জন্য ইউটিউবকে পেমেন্ট করে থাকে। ইউটিউব তখন সে প্রডাক্ট বা সার্ভিস গুলিকে ডিসপ্লে করে। এবং সে রেভিনিউ থেকে ইউটিউবারদের কে একটি অংশ দিয়ে থাকে। এক্ষেত্রে যারা ভিউয়ার তারা তাদের পছন্দের বিষয়ের উপর ভিডিও উপভোগ করতে পারে। এবং প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের প্রডাক্ট বা সার্ভিস সম্পর্কে মানুষকে জানাতে পারে। ইউটিউব এবং কনটেন্ট ক্রিয়েটররাও বেনিফিটেড হয়ে থাকে।

ইউটিউব মার্কেটিং করতে হলে কি কি জানতে হবে?

  • সর্ব প্রথমে আপনাকে ইউটিউব প্ল্যাটফর্ম সম্পর্কে জানতে হবে।
  • আপনাকে একটি জিমেইল একাউন্ট খুলতে হবে। তারপরে সেই জিমেইল একাউন্টের অধীনে একটি চ্যানেল খুলতে হবে।

ইউটিউব চ্যানেল দুই ধরনের হয়ে থাকে। যথা-

  1. প্রাইমারি (Gmail ID খোলার সময় যে নাম দেওয়া হয়)। এবং
  2. বিজনেস বা ব্রান্ড চ্যানেল
  • ইউটিউব মার্কেটিং করার জন্য আপনাকে অবশ্যই বিজনেস বা ব্র্যান্ড চ্যানেল খুলতে হবে।
  • একটি ব্রান্ডেড চ্যানেল খোলার জন্য ইউনিক নাম এবং টপিক নিয়ে রিসার্চ করতে হবে।
  • চ্যানেলের লোগো এবং ব্যানার বানাতে হবে।
  • ভিডিও এডিট করার জন্য যেকোনো একটি ভিডিও এডিটিং সফটওয়্যার ব্যবহার করা শিখতে হবে। (ক্যামটাসিয়া অথবা এডোবি প্রিমিয়ার প্রো জনপ্রিয়)
  • ভিডিও থাম্বনেল দেওয়ার জন্য গ্রাফিক্সের কাজ জানতে হবে।
  • ভিডিও রেংকিং এ আনার জন্য এসইও সম্পর্কে জানতে হবে।

ইউটিউব মার্কেটিং করার জন্য কি কি প্রয়োজন?

  • ভিডিও করার জন্য একটি ক্যামেরা এবং ট্রাইপড প্রয়োজন।
  • ভিডিও কোয়ালিটি ভালো করার জন্য লাইটিং সেট আপ প্রয়োজন।
  • ভয়েস রেকর্ডিং এর জন্য একটি মাইক্রোফোন প্রয়োজন।
  • উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন একটি ল্যাপটপ অথবা ডেস্কটপ প্রয়োজন।
  • ভিডিও এডিটিং এর জন্য একটি ভিডিও এডিটিং সফটওয়্যার প্রয়োজন।

[বি দ্র: বর্তমানে ইউটিউব মার্কেটিং শুরু করার জন্য আপনার কাছে ল্যাপটপ, ক্যামেরা না থাকলেও চলবে। মোবাইল দিয়ে শুরু করতে পারেন]

ইউটিউব মার্কেটিং এর সাফল্য পেতে কি কি করতে হবে?

  • বিভিন্ন ইউটিউবার এর সাথে কোলাবরেশন করতে হবে।
  • হাই কোয়ালিটি কন্টেন্ট বানাতে হবে।
  • ইউটিউব চ্যানেলে নিয়মিত ভিডিও দিতে হবে।
  • ভিডিও থাম্বনেল কোয়ালিটি এবং সাউন্ড ভালো হতে হবে। এবং
  • ভিডিওর টাইটেল ডেস্ক্রিপশন ঠিকমতো এসইও করে দিতে হবে।

ইউটিউব থেকে কি কি উপায়ে ইনকাম করা যায়?

  • গুগল এডসেন্স এর মাধ্যমে।
  • যেকোনো পণ্য বা সার্ভিস বিক্রি এর মাধ্যমে।
  • অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর মাধ্যমে।
  • স্পন্সর শিপ এর মাধ্যমে।

আপনার ইউটিউব মার্কেটিং নিয়ে কোন প্রশ্ন থাকলে এই ওয়েবসাইট এর Support Forums এ লিখতে পারেন।

আশা করি ইউটিউব মার্কেটিং কি বুঝতে পারছেন। ধন্যবাদ…

Comments 1

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Translate »