অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কি?

অনলাইনে ইনকামের অন্যতম মাধ্যম হচ্ছে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং। তবে যেকোনো একটি নিশ নিয়ে কাজ করলে খুব দ্রুত সফল হতে পারবেন। অন্যের প্রডাক্ট মার্কেটিং করে বিক্রি করিয়ে দেওয়ার মাধ্যমকে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং বলে।

অর্থাৎ, আপনার নিকটবর্তি একটি বাজার আছে। সেই বাজারে অনেক মোবাইল দোকান আছে। সে দোকানগুলোর মধ্যে ভালো একটি দোকানের রেফারেন্স করে প্রডাক্ট বিক্রি করিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়াই হচ্ছে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং।

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কিভাবে করবেন?

বিষয়টি আরও ক্লিয়ার করে দিচ্ছি, সেই দোকানগুলোর মধ্যে আমারও একটি দোকান আছে এবং আমি বিভিন্ন দামে, বিভিন্ন মডেলের মোবাইল ফোন বিক্রি করে থাকি। এখন, আপনার পরিচিত অপরিচিত অনেক মানুষই আছে যারা প্রায় মোবাইল ফোন কিনে থাকে এবং পরামর্শ করে কোন কোম্পানির মোবাইল ভাল। এখন, আপনি তাদেরকে আমার দোকানটি রেফার করে দিলেন যে তুমি একটি মোবাইল কিনতে চাচ্ছ রিপন ভাইয়ের দোকানে ভাল ভাল মডেল বা কোম্পানির মোবাইল আছে।

তখন আপনার কথা শুনে আপনার যে পরিচিত অথবা অপরিচিত মানুষগুলো আছে তাদের মধ্যে যারাই আমার দোকানে এসে মোবাইল ফোন কিনবে, প্রত্যেকটা সেল থেকে আপনাকে একটা কমিশন দেওয়া হবে। সেটাকে বলা হয় অ্যাফিলিয়েট ইনকাম।

ধরুন, আমি প্রত্যেকটা সেল থেকে এক হাজার টাকা করে লাভ করেছি এখন এই এক হাজার টাকার প্রফিট থেকে একশত টাকা আমি আপনার সাথে শেয়ার করলাম। কারন, এই কাস্টমার গুলো আমার ছিল না। আপনি এই কাস্টমার গুলো আমার দোকানে রেফার করেছিলেন যার জন্য আমার অনেকগুলো মোবাইল ফোন বিক্রি হয়েছে। এবং প্রত্যেকটা সেল থেকে আমি আপনাকে একটা প্রফিট দিচ্ছি, আমার প্রফিটের একটা অংশ থেকে। যেন আপনি ইন্সপায়ার হন, আপনার সাথে আমার একটা বেবসায়িক সম্পর্ক তৈরি হয় এবং ভবিষ্যতে অনেক কাস্টমার পাঠিয়ে দেন।

এখন আপনার কাছে দশ জন মানুষ আছে। এই দশ জনের মধ্যে যদি পাঁচ জনে পাঁচটা মোবাইল কিনে আপনার পরামর্শ শুনে। তাহলে প্রতিটা সেল থেকে একশত টাকা করে পেলে ১০০*৫ = ৫০০ টাকা আপনার কমিশন।

আর এই পুরো প্রক্রিয়াটাকেই বলা হয় অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং। সহজভাবে বললে আপনি কোন কোম্পানির পণ্য অথবা সেবা আপনার অডিয়েন্স, পরিচিত অথবা অপরিচিত মানুষগুলোর কাছে বিক্রি করে দিবেন যার বিনিময়ে ওই কোম্পানি তাদের লাভের অংশ থেকে একটি অংশ আপনাকে দিবে এটাই হচ্ছে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং।

অনুরূপভাবে, প্রথমে আপনাকে একটি “ব্লগ“, “ইউটিউবের চ্যানেল” বা “ওয়েবসাইট” তৈরি করতে হবে। এই “ব্লগ“, “ইউটিউবের চ্যানেল” বা “ওয়েবসাইটে” বিভিন্ন পণ্য যেমনঃ “মোবাইল ফোন”, “ডোমেইন”, “হোস্টিং”, “ওয়ার্ডপ্রেস থিম”, “অনলাইন সফটওয়্যার” কিংবা বিভিন্ন পণ্যের রিভিউ করলেন। আপনার যেগুলো অডিয়েন্স আছে তারা পড়ল, পড়ার পরে যদি পণ্যটি ভালো লাগে এবং পণ্যটি কিনে। তাহলে সেই সাইট আপনাকে একটা কমিশন দিবে। এই কমিশনের প্রক্রিয়াটিকে বলা হচ্ছে এফিলিয়েট মার্কেটিং।

কোন কোন ওয়েবসাইট অ্যাফিলিয়েট কমিশন দিয়ে থাকে?

হ্যাঁ আপনার মনে প্রশ্ন জাগতে পারে আপনাকে কত পার্সেন্ট কমিশন দেওয়া হবে। এটা বলতে গেলে বিভিন্ন সাইটে বিভিন্ন রকম হতে পারে, পাঁচ পার্সেন্ট থেকে ত্রিশ পার্সেন্ট। কিন্তু আপনি যে সাইটে এফিলিয়েট করবেন সেই সাইটের টার্মস এন্ড কন্ডিশন ভালোভাবে পড়বেন এবং অ্যাফিলিয়েট কমিশন এর বিস্তারিত ভালোভাবে পড়বেন।
সাইটটি যদি অ্যাফিলিয়েট কমিশন দিয়ে থাকে তাহলে অবশ্যই অ্যাফিলিয়েট কমিশন এর পার্সেন্টেজ লেখা থাকবে।

এখানে আমি জনপ্রিয় কিছু অ্যাফিলিয়েট সাইটের নাম উল্লেখ করছিঃ

  • Amazon
  • eBay
  • AliExpress
  • Themeforest
  • Daraz
  • Namecheap
  • Hostgator

সফল হতে কি কি করতে হবে?

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করতে গেলে প্রচুর ধৈর্যধারণ করতে হবে এবং প্রথম অবস্থায় কিছু টাকা বিনিয়োগ করতে হবে। এখানে বিনিয়োগ বলতে বোঝাই একটি ওয়েবসাইট তৈরি করতে, কনটেন্ট লিখতে এবং এসইও করতে যে খরচ হয়।

তবে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে ইনকাম করতে হলে প্রথমে 2-3 মাস ইনকাম নাও আসতে পারে। কিন্তু হতাস হওয়া যাবে না। এর পিচছনে লেগে থাকতে হবে, ছয় মাস পরে হোক বা চার মাস পরে হোক একদিন ইনকাম হবে। কিন্তু আপনাকে প্রথমে ইনভেস্ট করার মন মানসিকতা থাকতে হবে এই প্লাটফর্মে কাজ করতে গেলে।

একটি এফিলিয়েট সাইট থেকে কি কি উপায়ে ইনকাম করা যায়?

একটি এফিলিয়েট সাইট থেকে আপনি ছয়টি উপায়ে ইনকাম করতে পারবেন। যেমনঃ
১। রেফারেন্স কমিশন
২। গুগল এডসেন্স
৩। ওয়েবসাইটের প্লেসমেন্ট ভাড়া
৪। স্পন্সর পোস্ট
৫। প্রোডাক্ট সেল এবং
৬। স্পন্সরশীপ।

Comments 3

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Translate »