অনলাইনে আয়ের সেরা উপায় কি । অনলাইনে টাকা ইনকাম করার ৬ টি সহজ উপায়

অনলাইনে আয়ের সেরা উপায় কি?
ইন্টারনেট জগৎটা Facebook, social media and gaming এর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। আপনার সামান্য ইচ্ছা শক্তির বলে আপনি ইন্টারনেট হতে কিছু টাকা উপাজর্ন করতে পারেন। অনলাইন প্লাটফ্রম থেকে মানুষ ঘরে বসে হাজার হাজার ডলার আয় করছে। আপনারা অনেকেই ইন্টারনেট থেকে আয় করতে চাচ্ছেন। ভাবতেছেন অনলাইন থেকে ইনকাম করার সহজ পদ্ধতি কি হতে পারে? আজকে আমি আলচনা করব ৬ টি অনলাইনে আয় করার সেরা এবং সহজ উপায় নিয়ে।

অনলাইনে আয়ের সেরা উপায় :-

    1. ব্লগিং (Blogging)
    2. ফ্রিল্যান্সিং (Freelancing)
    3. অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং (Affiliate Marketing)
    4. ড্রপশিপিং (Dropshipping)
    5. ইউটিউব (Youtube Videos)
    6. উবার (Uber)





ব্লগিং করে আয় :-

অনলাইন ইনকাম করার লাভজনক উপায় ব্লগিং করা। এবং এটি অনলাইনে আয়ের সেরা মাধ্যম। আপনি গুগল ব্লগারে (Blogger) কিংবা ওয়ার্ডপ্রেসে (WordPress) বিনা মূল্যে একটি ব্লগ তৈরী করতে পারবেন। আপনার যে বিষয়ে পরিপূর্ণ জ্ঞান আছে, আপনি সে বিষয় নিয়ে লিখতে পারেন।

এটি এক প্রকার ওয়েবসাইট। ব্লগিং ওয়েবসাইট ওয়ার্ডপ্রেসে বা ব্লগারে ফ্রি তৈরি করতে পারবেন এবং টাকা দিয়ে ডোমেইন হোস্তিং কিনেও করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে হয়তো আপনার প্রথম ২-৩ মাস একটু কষ্ট হবে। তাই বলে আপনি হতাশ হয়ে হাল ছারে দিবেন না। লেগে থাকেন একদিন না একদিন সফল হবেন ইনশা-আল্লাহ।

গুগল অ্যাডসেন্স থেকে আয় :-

ব্লগিং করে ঘরে বসে অর্থ উপার্জনের সহজ পদ্ধতি হল গুগল অ্যাডসেন্স। Google Adsense হচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় বিজ্ঞাপনের (Advertisement) Program. এটি গুগল কর্তৃপক্ষ সয়ং নিজে পরিচালনা করছে। আপনার ব্লগটিকে গুগলের প্রথম পৃষ্ঠায় নিয়ে আসতে পারলে প্রচুর পরিমাণ আয় করতে পারবেন।

আপনার ব্লগে প্রচুর পরিমানে ভিজিটর থাকে তাহলে Adsense থেকে আপনি হাজার হাজার টাকা উপার্জন করতে পারবেন। এ পদ্ধতীতে আপনার ব্লগে Adsense এর বিজ্ঞাপন ব্যবহার করে ক্লিক প্রতি ডলার আয় করতে পারবেন। ধৈর্য ধরে কাজ করলে আপনি সফলতা পাবেন।

ফ্রিল্যান্সিং করে আয় :-

অনলাইনে আয় করার সেরা এবং সহজ উপায়
অনলাইনে আয়ের সেরা উপায়

ঘরে বসে অনলাইনে টাকা উপার্জন এর অন্যতম একটি মাধ্যম হচ্ছে ফ্রিল্যান্সিং। ফ্রীল্যান্সিং এর অর্থ মুক্তপেশা। বিভিন্ন কোম্পানীর জন্য স্বাধীন ভাবে চুক্তিভিত্তিক কাজ করাকে ফ্রীল্যান্সিং বলা হয়। আপনি যদি কোন বিষয়ে দক্ষ হয়ে থাকেন তাহলে ফ্রিল্যান্সিং এর মাধ্যমে বিভিন্ন মার্কেটপ্লেস থেকে ঘরে বসে অনলাইনে আয় করতে পারবেন।

ফ্রিল্যান্সিং করতে হলে আপনাকে আপনার কাজের উপর অবশ্যই দক্ষ হতে হবে। কারণ, অনলাইনে কাজ করতে হলে পৃথিবীর কোটি কোটি মানুষের সাথে প্রতিযোগিতা করে আপনাকে কাজ করতে হবে। সুতারাং যে কাজটি আপনি দক্ষতার সাথে করতে পারবেন সেই কাজটির জন্য আপ্লাই করতে পারেন। আপনি একটি কাজে অভিজ্ঞ হলে সেটিই ফাইবার মার্কেটপ্লেস এ সেল করতে পারবেন।

আপনি কি ভাবছেন কোন ক্যাটাগরিতে কাজ করবেন বা কোন কাজের চাহিদা বেশি অনলাইন মার্কেট প্লেসে? বর্তমানে মার্কেটপ্লেসে চাহিদা রয়েছে এমন কয়েকটি ক্যাটাগরির নাম জানতে ক্লিক করুন এখানে

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে আয় :-

ঘরে বসে অনলাইনে আয় করার সেরা উপায় অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং। এফিলিয়েট মার্কেটিং হচ্ছে কোন কোম্পানির সাথে কমিশন ভিত্তিক কাজ করা। কোন কোম্পানির সার্ভিস বা পণ্য বিক্রি করে দিলে সেখান থেকে 1-30% পর্যন্ত কমিশন দিয়ে থাকে এটাই হচ্ছে এফিলিয়েট মার্কেটিং।

ড্রপশিপিং করে আয় :-

ইন্টারনেট থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা আয় করার সহজ মাধ্যম ড্রপশিপিং। এটি মূলত একটি ই কমার্স ব্যবসা। আপনার একটি ওয়েবসাইট আছে কিংবা স্টোর আছে সেই স্টোর থেকে কোন কাস্টমার কোন পণ্যের অর্ডার করলে সে অর্ডার পণ্যটি কাস্টমারের নিকট পৌঁছে দিতে হবে। কিন্তু আপনার কাছে কোন টাকা নেই যে পণ্যটি কিনে স্টক করবেন।



এখন অ্যামাজন বা আলি এক্সপ্রেস এর কোন সাপ্লায়ার এর সাথে যোগাযোগ করলেন। কাস্টমারের নিকট সাপ্লায়ার সে পণ্যটি পৌঁছিয়ে দিবে। সেই অর্ডার থেকে ওই পণ্যটি সেই ঠিকানায় পাঠিয়ে দেওয়ার নাম ড্রপ শিপিং। এক্ষেত্রে পণ্যটি যদি আলি এক্সপ্রেস এ দাম রাখে 10 ডলার আপনার ওয়েবসাইটে সেটা 12 ডলার রাখে দুই ডলার লাভ হবে আপনার।

ইউটিউব চ্যানেল খুলে আয় :-

অনলাইনে আয় করার সহজ উপায় হচ্ছে একটি ইউটিউব চ্যানেল খুলে ভিডিও আপলোড করা। আপনার মাঝে যদি কোন প্রতিভা থাকে, এবং আপনি যদি ভিডিওর মাধ্যমে আপনার প্রতিভা মানুষের কাছে তুলে ধরতে পারেন, তাহলে ইউটিউবে ভিডিও আপলোড করে ইউটিউব থেকে ভাল উপার্জন করতে পারেন। প্যাসিভ ইনকাম করার বেষ্ট উপায় হচ্ছে ইউটিউব চ্যানেল খুলে ভিডিও মনিটাইজেশন।

বর্তমানে ইউটিউবের কিছু নিয়ম পরিবর্তন হয়েছে। আর তা হচ্ছে, আপনার সর্বনিম্ন এক হাজার সাবস্ক্রাইবার হতে হবে, প্রায় চার হাজার ভিউ হতে হবে। তবে এটি পূরণ করা খুব বেশি চেলেঞ্জের নয়, যদি আপনার ভিডিও গুলোতে দর্শকদের প্রয়োজনীয় কোন বিষয় বস্তু থাকে তাহলে সাবস্ক্রাইব এবং ভিউ পেতে আপনাকে খুব বেশি সময় অপেক্ষা করতে হবে না। তাই ভাল এবং শিক্ষনীয় বিষয় নিয়ে ভিডিও তৈরী করুন।

Uber থেকে আয় :-

ঘণ্টার পর ঘণ্টা ল্যাপটপের সামনে বসে থাকা ছাড়াও পছন্দের বাইক চালিয়েও ইন্টারনেট থেকে আয় করা যায়। বর্তমানে Uber এ রেজিস্ট্রেশন করে রাইড শেয়ার করে দিনে ১০০০ টাকা পর্যন্ত ইনকাম করা যায়। অনলাইন পরিবহন নেটওয়ার্ক কোম্পানি উবারের কোন নিজস্ব ট্যাক্সি বা গাড়ি নেই। তাই আপনার গাড়ি বা মোটরসাইকেল শেয়ার করে টাকা আয় করতে পারবেন।



উবার (Uber) হলো মোবাইল স্মার্টফোনের অ্যাপ-ভিত্তিক ট্যাক্সি সেবার নেটওয়ার্ক। উবারের কিছু নির্ণায়ক যোগ্যতা পূরণ করে ব্যক্তিগত গাড়ি আছে এমন যে কোন ব্যক্তিই উবার টিমের সাথে যুক্ত হতে পারেন। এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে একজন চালক ও যাত্রী নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ করে নিতে পারেন। উবারের ফ্রি অ্যাপটির মাধ্যমে একজন যাত্রী নিজের অবস্থান জানিয়ে একটি ট্যাক্সি ডেকে আনতে পারেন।

উবার অ্যাপটি ব্যবহার করে আপনি যদি ড্রাইভার অথবা গাড়ী চালক হিসেবে রেজিস্ট্রেশন করেন, তাহলে আপনার এলাকায় কোন প্যাসেঞ্জার যদি তার গন্তব্যস্থলে যাইতে চায়। এই অ্যাপ এর মাধ্যমে সেই যাত্রীর সাথে যোগাযোগ স্থাপন করে আপনি তাকে ড্রাইভ করতে পারবেন। এককথায় Uber এমন একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম যার মাধ্যমে আপনি গাড়ি চালিয়ে আয় করতে পারবেন।

এছারাও বিভিন্ন ক্যাটাগরি আছে। অনলাইন মার্কেটপ্লেসে হাজার হাজার জব প্রজেক্ট রয়েছে যেখানে বাংলাদেশের মানুষ অংশগ্রহন করতে পারে না। এই ব্লগে ৬ টি অনলাইনে আয়ের সেরা এবং সহজ উপায় নিয়ে আলোচনা করা হইছে। আর এগুলো বেশি জনপ্রিয় এবং চাহিদা সম্পন্ন মাধ্যম

আরো পড়ুন :-  ফাইবার থেকে কিভাবে আয় করা যায়?

আশা করি অনলাইনে আয়ের সেরা উপায় কি তা বুঝতে পারছেন আর কোন প্রশ্ন থাকলে কমেন্ট করে জানাতে পারেন। ধন্যবাদ

Comments 1

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *